পাকা কলা বিশ্বে পাওয়া এক বহু জনপ্রিয় ফল।পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে আপনি কোন না কোন প্রকার কলা পেয়ে যাবেন।
হয়তো পাকা কলা খুব সহজেই প্রাপ্য কিন্তু আপনি কি জানেন পাকা কলার কিছু বিস্ময়কর ক্ষমতা?
আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন, পাকা কলা কিডনি ক্যান্সার (Kidney Cancer) ডায়াবেটিস, osteoporosis, চোখের সমস্যা, হজম প্রক্রিয়া, হৃদ স্বাস্থ্য এবং ওজন কম করতে সাহায্য করে থাকে।
নিয়মিত পাকা কলা নিজের খাদ্য তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
পাকা কলায় পাওয়া ফাইবার, nutrition এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সুস্থ এবং সজাগ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও পাকা কলায় potassium, vitamin B6, vitamin C, mangnesium আর manganese পাওয়া যায়।
পাকা কলা প্রাকৃতিক ভাবে শক্তির এক অন্যতম উৎস। পাকা কলা কে শক্তি বৃদ্ধির এক অন্যতম উপাদান হিসাবে গণ্য করা হয়। কমজোর এবং অসুস্থ লোকদের পাকা কলা খাওয়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্বের সমস্ত জায়গাতে কোন না কোন ধরনের কলা পাওয়া যায়। এই অতি জনপ্রিয় ফলটির কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে।
পাকা কলায় খুব কম মাত্রায় calorie থাকে। এই কারণে পাকা কলা কে ওজন কম করার এক বিশিষ্ট খাদ্য প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া পাকা কলায় protein আর ফাইবার বিশেষ ভাবে পাওয়া যায়।
পাকা কলাকে এক জনপ্রিয় জল খাবার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। পাকা কলার সেবন শারীরিক সুস্থতার জন্য বহু দরকারি খাদ্যবস্তু।
আসুন জেনে নি এই জনপ্রিয় ফলটির কিছু বিস্ময়কর উপকারিতা
পাকা কলার সাধারণত বহু উপকারিতা রয়েছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপকার হচ্ছে পাকা কলার শক্তি প্রদান করার ক্ষমতা।
তাই পাকা কলা আমাদের খাদ্য তালিকায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবস্তু।
১. পাকা কলা শক্তির উৎস (Energy Source)
আপনি হয়তো দেখেছেন হবে খেলোয়াড়রা এবং ক্রীড়াবিদরা খেলার আগে পাকা কলা খায়। কেননা পাকা কলা শক্তি জন্য গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
ফুটবল খেলার মাঝে দেখে থাকবেন খেলোয়াড়রা মাঝে মাঝেই পাকা কলা খায়। পাকা কলা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান দেয়।
২. রক্তচাপ কম করতে সাহায্য করে (Lower Blood Pressure)
পাকা কলা রক্তচাপ কম করতে বিশেষ উপকারী । পাকা কলায় পাওয়া পটাশিয়াম রক্তচাপ কম করতে সাহায্য করে।
ধমনীর মধ্যে রক্তকে সহজভাবে প্রবাহ করতে সাহায্য করে। ধমনীতে সহজ ভাবে রক্ত বাহিত হলে হৃদ রোগ যেমন heart attack এবং স্ট্রোক থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে।
পাকা কলায় বহুমাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায়। যেটি ধমনী থেকে অধিক কোলেস্টেরল কে বাহির করে ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয়। এর থেকে হৃদপিণ্ড এর চাপ কম হয় এবং আপনার হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকে।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) থেকে মুক্তি দেয়
পাকা কলায় বহুমাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায় যেটা আপনার হজমে সাহায্য করে থাকে। হজম প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
এ কারণে সচরাচর শুনে থাকবেন পাকা কলা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। নিয়মিত আহারের পাকা কলা অন্তর্ভুক্ত করলে হজম শক্তি প্রবল থাকে।
৪. কোলন ক্যান্সার (Colon Cancer) প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে
পাকা কলা হজম প্রক্রিয়ায় এবং মল নিঃসরণ করতে সাহায্য করে।
পাকা কলায় পাওয়া ফাইবার মল নিঃসরণ করতে সাহায্য করে। সহজ ভাবে মল নিঃসরণ করতে পারলে কোলন ক্যান্সারের মত রোগকে দূরে রাখা যেতে পারে।
৫. হাঁপানি রোগ (Asthama) থেকে প্রতিরোধ করতে পারে
Researches পাওয়া গিয়েছে বাচ্চারা নিয়মিত পাকা কলার সেবন করলে হাঁপানি রোগের (Asthama) ঝুঁকি কমানো যায়। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন একটি অধ্যায়নে পেয়েছে যে নিয়মিত একটি পাকা কলা খেলে হাঁপানি রোগর ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ কম করা যায়।
৬. রক্তাল্পতা (Anemia) কম করতে সাহায্য করতে পারে
পাকা কলায় বিপুল মাত্রায় iron পাওয়া যায় যেটি anemia কম করতে সাহায্য করতে পারে। Iron লোহিত রক্ত কণিকার (Red Blood Cell) বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
এছাড়া পাকা কলায় পাওয়া copper লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হতে সাহায্য করে। লোহিত রক্ত কণিকার বৃদ্ধি শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কে ঠিক ভাবে কার্য করতে সাহায্য করে।
অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি কম করতে নিয়মিত পাকা কলা খাওয়া উচিত।
৭. ওজন কম করতে সাহায্য কারী (Weight Loss)
পাকা কলায় calorie এর সংখ্যা খুবই অল্প যেটি আপনার ওজন কম করতে সাহায্য করে। পাকা কলা সহজেই হজম করা যেতে পারে। এছাড়াও পাকা কলায় অনেক মাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায় এটি ওজন কম করতে পরোক্ষভাবে কার্যকরী।
পাকা কলা বারবার খিদে পাওয়া থেকেও আপনাকে দূরে রাখতে পারে। পাকা কলার এই বিশেষ চরিত্রের জন্য আপনাকে বেশি খাওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
৮. হাড় কে মজবুত করে (Bone Strength)
পাকা কলায় মজুদ fructooligosaccharide এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যেটি খাবার থেকে minerals এবং nutrients কে শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে।
ক্যালসিয়াম আপনার হাড়ের বৃদ্ধি এবং হাড় কে মজবুত করতে কার্যকরী। এই ব্যাকটেরিয়াটি শরীরে ক্যালসিয়াম কে শোষণ করতেও সাহায্য করে থাকে।
৯. কিডনিকে (Kidney) সুস্থ রাখতে সাহায্য করে
পাকা কলায় পাওয়া পটাশিয়াম কিডনিকে সুস্থ রাখতে এক বহু দরকারি তথ্য। পাকা কলা পটাশিয়ামের এক প্রাকৃতিক ভান্ডার।
অধ্যায়নে দেখা গেছে যে 13 বছর ধরে সপ্তাহে ২-৩ পাকা কলা খেলে মহিলাদের মধ্যে 33 শতাংশ কিডনির রোগের ঝুঁকি কম দেখা গিয়েছে।
নিয়মিত খাবারে পাকা কলা অন্তর্ভুক্ত করা আপনার কিডনির জন্য উপকারী হতে পারে।
সপ্তাহে ৪-৬ বার পাকা কলা খেলে কিডনি রোগের ঝুকি 50% কম করা যেতে পারে।
১০. অ্যাসিডটি এবং আলসার (Acidity and Ulcer) থেকে মুক্তি দিতে পারে
পাকা কলা প্রাচীন যুগ থেকেই অ্যাসিডটি কম করতে প্রয়োগ করা হয়ে আসছে। পাকা কলা শরীরে অধিকমাত্রায় অ্যাসিড তৈরি হওয়ার থেকে বাধিত করে।
অধিক মাত্রায় অ্যাসিড আলসার এর মূল কারণ। পাকা কলায় পাওয়া protease inhibitor ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার নাশ করে যেটি আলসার জন্য দায়ী।
১১. পাইলসের (Piles) চিকিৎসায় সাহায্য করে
পাকা কলায় অধিক মাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায় যেটি আপনাকে সহজভাবে মল নিঃসরণ করতে সাহায্য করে।
মলদ্বারের মজুদ শিরা ফুলে গেলে পাইলস হয়। সহজ ভাবে মল নিঃসরণ না করতে পারা পাইলস হওয়ার অন্যতম কারণ।
পাকা কলায় প্রাকৃতিক ভাবে জোলাপ উপাদান পাওয়া যায়। এই কারণে নিয়মিত পাকা কলা খেলে পাইলস কম করতে সাহায্য করে।
১২. দৃষ্টিশক্তি (Vision) বাড়াতে সাহায্য করতে পারে
অনেক ফলের মতন পাকা কলায় বহুমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যারোটিনয়েডস পাওয়া যায় এটি আপনার দৃষ্টি শক্তির জন্য উপকারী।
এছাড়াও পাকা কলায় বহুমাত্রায় মিনারেল এবং ভিটামিন পাওয়া যায় সেটি cataract, গ্লুকোমা এবং রাতকানা রোগের ঝুঁকি কম করতে উপকারী।
১৩. স্মৃতিশক্তি (Memory) এবং খোশমেজাজ (Boost Mood) বাড়াতে সাহায্য করে থাকে
পাকা কলায় পাওয়া tryptophan এক ধরনের neurotransmitter যেটি আপনার স্মৃতিশক্তি এবং খোশমেজাজ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১৪. ঘুমাতে সাহায্য করে (Sleep Well)
কলায় পাওয়া Vitamin B6 সঠিকভাবে ঘুমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও, পাকা কলায় অধিক মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় যেটি শরীরকে আরাম করতে সাহায্য করে।



Comments
Post a Comment